Header Ads

Header ADS

আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা : আশপাশের খাসজমি প্রভাবশালীদের দখলে নানা সমস্যায় নাকুগাঁও

নাকুগাঁও আশ্রয়ন



নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : নিত্যপ্রয়োজনীয় পানিসহ খাবার পানির সংকট, বিদ্যুৎ না থাকা, নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ভূমিসহ ঘরের দলিল হস্তান্তর না হওয়া, আশপাশের খাসজমি প্রভাবশালীদের দখলে যাওয়ায় অবরুদ্ধ হওয়া পাহাড়ি ঢলের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা। বারবার সরকারের কর্তাব্যক্তিদের দুয়ারে ঘুরেও মিলেনি এসব সমস্যার সমাধান।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে জানা যায়, ২০১৪ সালে নাকুগাঁও আশ্রয়ন প্রকল্পটি ২৮জন ভূমিহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করে সরকার। হস্তান্তরের সময় বিদ্যুৎ সুবিধা ব্যতীত খাবার পানিসহ স্যানিটেশন অন্যান্য সুবিধা থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ সুষ্ঠু তদারকির অভাবে অল্প সময়েই এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করে প্রকল্পের বাসিন্দারা। দু-তিনটি নলকূপ সচল থাকলেও অতিরিক্ত আয়রণের ফলে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

প্রকল্প সংলগ্ন ভোগাই নদীতে যাতায়াতের সরকারী রেকর্ডভুক্ত রাস্তাটিও পর্যায়ক্রমে চলে গেছে দখলদারদের পেটে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য পানি সংকট মোকাবেলায় নদীপথেও অবরুদ্ধ হয় প্রকল্পের বাসিন্দারা। চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে গর্তে পরিণত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের সময় তলিয়ে যায়। ফলে ওই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রকল্পের চারপাশে বিদ্যুতের সারি সারি তার খুঁটি শোভা পেলেও প্রকল্পের বাসিন্দারা রয়ে গেছে অন্ধকারে। প্রকল্পের বাসিন্দারা এখনও বুঝে পায়নি ঘর হস্তান্তরের দলিল।

 আশপাশের খাস জমিগুলোও চলে গেছে দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে।প্রকল্পের বাসিন্দা আলী হোসেন (৬৯) জানান, ভালো পানির ব্যবস্থা নেই। আশপাশে ছাগল-গরু চড়ানোর জন্য জায়গা নেই। ঘর লেপার জন্য একটু মাটিও আমরা পাই না।রাফেজা বেগম (৫০) জানান, টিউবওয়েলের পানি ভালো নয়। নদী থেকে রান্না-বান্না খাবার পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি আগে আনা গেলেও বর্তমানে রাস্তা দখল করে বেড়া দেওয়ায় তারা নদীতে যেতে পারেন না।

আব্দুল জলিল (৫০) জানান, আগে সরকারী রাস্তা ছিল। কিন্তু এখন রাস্তা দখল করে বেড়া দেওয়ায় নদীতে যেতে পারি না।কোহিনূর বেগম (৪৫) জানান, ঘর পাইছি। কিন্তু ঘরের কাগজ পাইনি। আশপাশের জমির মালিকরা সীমানা ঠেলে প্রকল্পের মধ্যে চলে আসছে।
বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, সরাসরি কোন অভিযোগ পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে শোনেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


No comments

Powered by Blogger.